মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে আইনের আওতায় এলেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষ কর্মকর্তা। ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী মোহনা আক্তার বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে জেলহাজতে পাঠান।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন— সাফিকুর রহমানের বাসায় কর্মরত গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
এর আগে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকার নিজ বাসা থেকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী এবং বাসার আরও দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাফিকুর রহমানের বাসায় মোহনা নামের ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। ওই শিশুকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। মারধর, অমানবিক আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শিশুটিকে দাসত্বের মতো অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে আসে।
নির্যাতনের চিহ্ন ও শিশুটির করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে তার পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকেও এমন নৃশংস শিশু নির্যাতনের অভিযোগ জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, ক্ষমতা ও পদমর্যাদার আড়ালে থেকে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
এ ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply