মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি :জেলার আত্রাই উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর লবিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ০৬ নং মনিয়ারী ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার নওদুলী গ্রামের বাসিন্দা শ্রীঃ বিশু ও শ্রীঃ মানিক ঠাকুর সম্প্রতি নিজেদের জায়গায় নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নির্মাণকাজ শুরুর পরই অভিযুক্তরা জায়গা নিয়ে সমস্যা ও বিরোধ রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তাদের কাজে বাধা প্রদান করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি স্থানীয় বিরোধ বলে মনে হলেও পরে অভিযোগ ওঠে, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায়ের কৌশল।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জায়গার জটিলতা সমাধান এবং ঘর নির্মাণ চালিয়ে যেতে হলে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। প্রথমে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিশু ও মানিক ঠাকুরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ঘর নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন হয়রানির পর বাধ্য হয়ে মানিক ঠাকুর ৪০ হাজার টাকা এবং বিশু ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা দেওয়ার পরই তাদের ঘর নির্মাণে আর বাধা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কিছু নেতা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় বিশু ও মানিক ঠাকুর বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি চাপে ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মনিয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. ইউনূস, ০৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল, মনিয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. শফিক এবং মনিয়ারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. হানিফ আলী।
এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি দলের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। কেউ ফোন রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেননি।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যদি কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও হুমকি হতে পারে।
ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply