নিজস্ব প্রতিবেদক:আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই উপজেলা পর্যায়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই সভাতেই যদি বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একাধিক মামলার আসামিদের উপস্থিতি দেখা যায়, তাহলে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়—এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় অনেক সচেতন নাগরিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় আওয়ামীলীগের নেতারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। শুধু তাই নয়, তারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,গতকাল (২৯ জুন) আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন একাধিক মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখিত ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা (চেয়ারম্যান) এবং ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ওরফে জিএমবি নেতা নাজিমুদ্দিন মণ্ডল (চেয়ারম্যান)।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে পরিচিত, তারা কীভাবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান? এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিয়ে দেওয়া আশ্বাস কতটা বিশ্বাসযোগ্য—সেই প্রশ্নও উঠছে।
সমালোচকদের ভাষ্য, “যাদের বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা নষ্টের অভিযোগ, তাদের নিয়েই যদি জননিরাপত্তার পরিকল্পনা হয়, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা সভা নয়, বরং জনমতের সঙ্গে প্রহসন।”
স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক, যাতে সভার নিরপেক্ষতা ও জনবিশ্বাস অক্ষুণ্ন থাকে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানগণ (তোফা,নাজিমুদ্দিন) আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সচেতন মহল সহ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন;যাদের পালিয়ে থাকার কথা তারা কিভাবে চেয়ারম্যান পদে এখনো বহাল থেকে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply