সাভার প্রতিনিধি: সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির গ্রেপ্তারের একদিন পরই তার পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কথিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজার স্ত্রী সাথী আক্তারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) শিরিন আক্তার নামে পরিবারের এক সদস্য থানায় দায়ের করা অভিযোগে সাথী আক্তার, সোহরাব, নিলুফা ইয়াসমিন, জেমস গোমেজ ওরফে গুপ্ত কাজল, শাকিব, রাকিব, মনিরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাভারের দেওগাঁ পূর্বপাড়ায় অবস্থিত তাদের দুটি বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়াদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, খবর পেয়ে রুমী আক্তার, শিরিন আক্তার, সুখি আক্তার ও তাদের মা মিনারা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে রুমী আক্তারের মাথায় আঘাত লেগে তিনি আহত হন। পরে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মাথায় সেলাই দেওয়া হয়। হামলার সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মিনারা বেগমকে মারধর করে আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে শিরিন আক্তারের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের তিন নারী সদস্যের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। হামলার সময় শিশু ও অন্যান্য স্বজনদেরও মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তারের পরদিনই পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, যে মামলায় সামিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই মামলার বাদী সাথী আক্তারের নেতৃত্বেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তবে সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই নূরুল আমিন কালবেলাকে বলেন, এ লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। সরে জমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply