মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, তার ওপর অভাবের কষাঘাত- সব মিলিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দীঘা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ শফিক ও তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের দিনগুলো কাটছিল চরম মানবেতর অবস্থায়। জরাজীর্ণ মাটির ঘর, মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনি, তাও আবার ছিদ্রযুক্ত।টানা বর্ষণে সেই ঘর যেন তাঁদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে।
তবে দীর্ঘ বঞ্চনার পর অবশেষে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
নির্ঘুম রাত ও টিকে থাকার সংগ্রাম প্রতিটি বৃষ্টির রাত শফিক দম্পতির কাছে ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার নাম। পলিথিনের ছাউনি ভেদ করে বৃষ্টির পানি সরাসরি ঘরের ভেতরে পড়ায় বিছানা, কাপড় ও সামান্য খাবার ভিজে একাকার হয়ে যেত। ভাঙাচোরা দেয়াল আর ধসে পড়া মাটির ঘরের কোণায় জমে থাকা পানি সেচতে সেচতেই পার হতো তাঁদের নির্ঘুম রাত। বৃদ্ধ শফিক স্থানীয় চা-স্টল গুলোতে পানি সরবরাহের কাজ করে দৈনিক মাত্র ৫০ টাকা আয় করতেন, যা দিয়ে কোনোমতে চলত তাঁদের সংসার। কিন্তু বর্ষার কারণে সেই কাজও এখন বন্ধ। ফলে না খেয়ে বা আধপেটা খেয়ে কাটছিল তাঁদের শেষ বয়সের দিনগুলো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অসহায় দম্পতির জীবনযুদ্ধের গল্প তুলে ধরেন গ্রীন টেলিভিশনের (আত্রাই-রাণীনগর) প্রতিনিধি আবু সুলতান আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের মানবেতর জীবনের চিত্র ও অসহায়ত্বের কথা ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে এই দম্পতির খোঁজখবর নেন।
বৃদ্ধ দম্পতির চরম দুরবস্থা দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান তাঁদের উপজেলায় ডেকে নিয়ে জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি চিনি এবং লবণ ও মসলাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, এই দম্পতির স্থায়িত্বশীল জীবন নিশ্চিত করতে তাঁদের বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, বহু বছর ধরে অবহেলার শিকার এই অসহায় দম্পতিকে প্রশাসনের সহায়তার আওতায় নিয়ে আসায় ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের উদারতায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসা এক বৃদ্ধ দম্পতির হাহাকার শুনে প্রশাসনের দ্রুত সাড়া পাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। শফিক ও মনোয়ারা বেগমের এখন একটাই স্বপ্ন- আর যেন বৃষ্টির রাতে আতঙ্কে রাত কাটাতে না হয়। একটি নিরাপদ ছাদই এখন তাঁদের শেষ বয়সের পরম পাওয়া।
Leave a Reply