মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মুক্তি রাণীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জুলাই আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের সূত্র হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, ‘Bangladesh Awami League’ নামের একটি ফেসবুক পেজে করা একটি পোস্টের মন্তব্যের ঘরে জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে ওই শিক্ষিকার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘Cdi’ লেখা একটি মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্ক্রিনশটটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মুক্তি রাণী এর আগেও বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ‘Bangladesh Awami League’ নামের ফেসবুক পেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাইভ চলাকালে ওই মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মুক্তি রাণী দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি ক্লোন করে অন্য কেউ ওই মন্তব্য করেছে। তবে তার এ দাবির পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষিকা মুক্তি রাণীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কেউ যদি জুলাই আন্দোলন নিয়ে অশ্লীল বা আপত্তিকর মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আত্রাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকায় থাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাযহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তিনি যদি এ ধরনের কোনো কাজ করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ
এ ঘটনায় আত্রাইয়ের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্রাইয়ের শহীদ হিসেবে শেখ ফাহমিন জাফর ও শাকিল আনোয়ার তোতার নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সমাজের কাছে দায়িত্বশীলতার প্রতীক। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আন্দোলন, শহীদ বা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অশ্লীল কিংবা অবমাননাকর মন্তব্য করা হলে তা শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও আচরণবিধির প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটটি প্রকৃত কি না, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি সত্যিই মুক্তি রাণীর কি না এবং তার দেওয়া ‘আইডি ক্লোন’ দাবির সত্যতা-এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে বিষয়টি স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply