সাভার প্রতিনিধি:
সাভার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যেন বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক, অলিগলি ও বসতবাড়ির সামনে জমে যায় হাঁটুসমান পানি। সেই পানির সঙ্গে মিশে যায় বাথরুমের নোংরা পানি ও ম্যানহোলের দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য। ফলে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ৪০ হাজার পোশাক শ্রমিকসহ হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা। জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চলাচলই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে দিন দিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি লালমিয়া মাদবরের বাড়ির সামনের সড়ক থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি নামার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে ৩ নম্বর গেন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু অবৈধভাবে জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করায় মূল ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় ওই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু ড্রেনের মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। পানি ঢুকে পড়ে অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কাজ শেষে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় হাটুরসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। অনেক শিশু-কিশোরকেও বিদ্যালয়ে যেতে হয় একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জলাবদ্ধতার পানিতে মিশে থাকে ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের ময়লা। এ কারণে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে চর্মরোগ, পা পচে যাওয়া, অ্যালার্জি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
সাভার পৌর যুবদলের সাবেক কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় নূরে জাহান জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। বারবার পৌরসভায় লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। জনপ্রতিনিধিদেরও বিষয়টি অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। সবচেয়ে কষ্টে থাকেন পোশাক শ্রমিকরা। দ্রুত ড্রেনের মুখ দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী লাল মিয়া মাদবর জানান, বর্ষা এলেই তারা আতঙ্কে থাকেন। কারণ রাতের বেলা বৃষ্টি হলে সকালে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের স্কুলে পাঠানো যায় না, কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও রিকশা বন্ধ হয়ে যায় পানিতে।
তাদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার বিষয়টি দীর্ঘদিনের হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পানি চলাচলের পথ স্বাভাবিক করা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।
ভুক্তভোগী ইউছুফ মিয়া বলেন,সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদে যেতে সমস্যা হয়। পানি লেগে শরীর অপবিত্র হয়ে যায়। আমি এ সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।
স্থানীয় গৃহিণী রুনা বেগম বলেন,জলাবদ্ধতা আমাদের এ এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপ । আমরা এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।
এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেনের মুখ দখলমুক্ত করে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে আগামী দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং জনভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।
Leave a Reply