জুলাই আন্দোলনে পুলিশ সদস্যদের হত্যা হোক কিংবা ছাত্র-জনতার মৃত্যু- যে কোনো ঘটনার বিচার করতে গেলে রাজনৈতিক দায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অনিবার্যভাবেই আলোচনায় উঠে আসে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলের বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভ থেকেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতায় বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান, অসংখ্য মানুষ আহত হন এবং অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
অন্যদিকে, সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সদস্যরাও নিহত হন। অর্থাৎ, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ আন্দোলনকারী-উভয় পক্ষই।
সে কারণে পুলিশ হত্যা কিংবা ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ড-যে ঘটনাই তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসুক না কেন, সেই সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারের সিদ্ধান্ত, নীতি এবং রাজনৈতিক দায় স্বাভাবিকভাবেই বিচারিক ও জনআলোচনার অংশ হয়ে উঠবে।
আজ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী পুলিশ হত্যার বিচার দাবি করছেন। তবে একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পুরো প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং সব ধরনের প্রাণহানির নিরপেক্ষ ও সমান গুরুত্বে বিচার নিশ্চিত হওয়াও জরুরি। কারণ, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সরকারের ওপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকের জীবন সুরক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্ব বর্তায়।
সকল নিহতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং আইনের ভিত্তিতে বিচারই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ। সেই প্রক্রিয়ায় যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, আইন অনুযায়ী তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
কলামিস্ট-মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম
রিপোর্টার দৈনিক ইনকিলাব
Leave a Reply