আত্রাই (নওগাঁ) উপজেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ধর্ষণ মামলায় ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাজিমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভোঁপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শরিফা (৩৫) নামে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নাজিমুদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পালিয়ে থাকা অবস্থায় ওই নারীর সঙ্গে নাজিমুদ্দিনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করায় ওই নারী আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের মামলায় তালিকাভুক্ত আসামি হওয়ায় শনিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাজিমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোঁপাড়াসহ আত্রাইজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগেও আলোচনায়
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সম্প্রতি সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগেও চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে সরকারি ছয়টি জানালা দুটি ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তা আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। ওই সময় চেয়ারম্যানকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি চালসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উদ্বেগজনক’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে তা শুধু একজন নারীর প্রতি অন্যায় নয়, জনপ্রতিনিধিত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
তারা আরও বলেন, সরকারি সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা জনপ্রতিনিধির পদ যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সচেতন মহলের মতে, ধর্ষণ মামলাটি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনানুগ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগেরও পৃথক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইন সবার জন্য সমান এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
এদিকে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ এবং সর্বশেষ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভোঁপাড়াসহ পুরো আত্রাইয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা- রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা জনপ্রতিনিধির পদ নয়, অভিযোগের সত্যতা ও প্রচলিত আইনের ভিত্তিতেই যেন পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।
Leave a Reply