মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:মহান বিজয় দিবসের মতো সর্বোচ্চ জাতীয় মর্যাদার দিনে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আত্রাই উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই দুঃসাহসিক ও উসকানিমূলক তৎপরতায় পুরো এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য—এটি ছিল পরিকল্পিত শক্তি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
গতকাল ১৬ ডিসেম্বর ভোর ৭টার দিকে আত্রাই উপজেলার ০৮ নম্বর হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বান্দাইখাড়া ব্রীজ এলাকায় এই ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি অত্যন্ত দ্রুত সংগঠিত করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়—যা স্পষ্টতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল। মিছিল চলাকালে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার করা হয়, যা বিজয় দিবসের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মিছিলে আত্রাই উপজেলা থেকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন—
মো. মাহাদী মসনদ স্বরূপ (সভাপতি, আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ),
মোহাম্মদ আলী (সাংগঠনিক সম্পাদক, আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ),
মো. সুলতান হোসেন (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ),
মো. রাফিউল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, আত্রাই উপজেলা যুবলীগ),
মো. মোস্তাফা কামলা ওরফে আবুহেনা (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আত্রাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ),
মো. সবুজ মাস্টার (সাবেক সভাপতি, এমএএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ; সদস্য, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ),
মো. আব্দুল কুদ্দুস (সাবেক সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগ; সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগ),
মো. শাহিন হোসেন (সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ)।
শুধু আত্রাই নয়—পার্শ্ববর্তী বাগমারা, মান্দা ও রাণীনগর উপজেলা থেকেও নেতাকর্মীরা এসে এই মিছিলে যোগ দেয় বলে নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগের এক সক্রিয় সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, “এটি হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়; আগেই সমন্বয় করে লোক আনা হয়েছিল।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও এসব সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী গোপনে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জাতীয় দিবসকে ঢাল বানিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে; অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাস দমন আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি—শুধু আশ্বাস নয়, অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজয় দিবসের মতো দিনে এ ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতা কেবল আইন লঙ্ঘনই নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও প্রকাশ্যে মিছিল হলে কারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? দ্রুত জবাবদিহি ও কঠোর অভিযানই এখন জনমনে আস্থা ফেরানোর একমাত্র পথ।
Leave a Reply