মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বহুল আলোচিত কছির উদ্দিন দেওয়ান হাইস্কুলে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে গাইড বই খুলে এবং মোবাইল ফোনে প্রশ্নের উত্তর দেখে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে গাইড বই খুলে উত্তর লিখছে। আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখে তা খাতায় লিখছে এমন দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষার হলে যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, জ্ঞান ও প্রস্তুতির মূল্যায়ন হওয়ার কথা, সেখানে প্রকাশ্যে গাইড বই ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠায় প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে ওই পরীক্ষায় শিক্ষকদের দায়িত্ব কোথায় ছিল? পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কী করছিলেন? নাকি পরীক্ষার হলেই অনিয়মকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছিল?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পরীক্ষা চলাকালে একজন শিক্ষার্থী ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার হলে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে গাইড বই কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখা শুধু পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ মেধা বিকাশের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করলেও বাস্তব জীবনে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা থেকে বঞ্চিত হবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—শিক্ষার্থীরা অনিয়ম করছে, অথচ তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠেছে।
সরকার যখন শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সুশিক্ষিত ও যোগ্য জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তখন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার হলে এমন চিত্র পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই বিব্রতকর। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগরদের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের প্রতি নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
বিষয়টি নিয়ে উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো.শহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি ঘটনাটি ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে কেউ করেছে বলে দাবি করেন।আবার উনি ই বলেন, এমন ঘটনা ঘটেনি।তার কথার মাঝে বেশ গরমিল পাওয়া গিয়েছে।
এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন (মাধ্যমিক) এবং আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে-তদন্তে কি সত্যিই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় থেমে গেলে বিষয়টিও ধামাচাপা পড়ে যাবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার হলে এমন অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply