1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের হয়রানির প্রতিবাদে আত্রাইয়ে মানববন্ধন, ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন ফারিয়া নেতারা আত্রাইয়ে হেরোইন ও নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী প্রিন্স গ্রেফতার সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি ‘দ্য রেনেসাঁস ওভারসিজ’ দিচ্ছে নিরাপদ বিদেশ যাত্রার নিশ্চয়তা ধামসোনা ইউনিয়নে মেম্বার পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আত্রাইয়ের যুবক র‍্যাবের অভিযানে ৮৫ পিচ ইয়াবাসহ নাটোরে আটক গ্রেটার ঢাকা উইং (ওমান) কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মনির–সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য পতিসরে বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন আত্রাই সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজি সাভারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম – এর বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত। আত্রাই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা

উপসম্পাদকীয়: “এই বাজার কার—ব্যবসায়ীর, না সিন্ডিকেটের?”

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

সত্যটা স্বীকার করতে সাহস লাগে। আর সেই সত্যটা হলো—আমাদের বাজার এখন আর মুক্ত নয়, এটি দখলে আছে সিন্ডিকেটের। এখানে পণ্যের দাম ঠিক হয় না উৎপাদন খরচ বা ন্যায্য মুনাফার ভিত্তিতে; ঠিক হয় দখলদারদের ইশারায়।

হাফেজ এনামুল হাসান নবীনের ঘটনাটি তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি অসুস্থ ব্যবস্থার নগ্ন প্রকাশ। একজন উদ্যোক্তা, যিনি কম দামে ভালো পণ্য দিতে চেয়েছিলেন, তাকেই বাজার থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার “অপরাধ”—তিনি সিন্ডিকেটের নিয়ম মানেননি।

কী ভয়ংকর সেই নিয়ম? ৪৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি করা যাবে না! অর্থাৎ ক্রেতা ঠকবে, কিন্তু সিন্ডিকেটের লাভ ঠিকই থাকবে। আর কেউ যদি সেই চক্র ভাঙতে চায়, তার জন্য অপেক্ষা করছে হুমকি, হামলা, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া—এটাই এখনকার বাস্তবতা।

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা যাদের, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রই যদি নীরব দর্শক না থেকে সক্রিয় সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়—তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায় থাকবে? অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুরক্ষা না দিয়ে উল্টো দোকান বন্ধে সহায়তা করেছে। যদি সেটি সত্য হয়, তবে এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়—এটি সরাসরি অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

এই ঘটনাকে আরও নির্মম করে তুলেছে আরেকটি দিক—নবীনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষরা। অর্থাৎ এটি ছিল মানবিক উদ্যোগেরও একটি উদাহরণ। কিন্তু এই সমাজ সেই মানবিকতাকে পুরস্কৃত করেনি, বরং শাস্তি দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কী হলো? একজন উদ্যোক্তা দেশ ছাড়লেন। তার স্বপ্ন ভেঙে গেল। আর সিন্ডিকেট রয়ে গেল অক্ষত, অপ্রতিরোধ্য।

এখন প্রশ্নটা সরাসরি—এই দেশে কি সৎভাবে ব্যবসা করা সম্ভব? যদি কম দামে ভালো পণ্য দেওয়া অপরাধ হয়, তাহলে আমরা কিসের অর্থনীতি গড়ছি? মুক্ত বাজারের, নাকি দখলদারিত্বের?

এই নীরবতা সবচেয়ে ভয়ংকর। কারণ অন্যায় যখন প্রকাশ্যে ঘটে, আর সমাজ তখন চুপ থাকে—তখন সেই অন্যায়ই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।

হাফেজ এনামুলের চলে যাওয়া শুধু একজন মানুষের পরাজয় নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে ভালো মানুষ টিকতে পারে না, আর লুটেরারা দিব্যি রাজত্ব করে।

এই বাস্তবতা যদি না বদলায়, তাহলে ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার। কারণ তখন আর কেউ সাহস করবে না সৎ পথে হাঁটতে—আর আমরা সবাই ধীরে ধীরে বন্দী হয়ে যাবো এক নিষ্ঠুর, নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থার মধ্যে।

মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম
গণমাধ্যমকর্মী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :