নিজস্ব প্রতিবেদক:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের রসুলপুর বটতলী মোড় সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তাদের আইনগত মালিকানাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, ২০১৫-২০১৬ সালের দিকে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোঃ আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন এবং জুবায়ের হোসেন নামে চার ব্যক্তি ভুয়া ও জাল দলিল (forged documents) সৃষ্টি করে তার মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখল করেন এবং দ্রুততার সঙ্গে উক্ত জমিতে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা বেআইনি উপায়ে জমির দখল গ্রহণের সময় প্রকৃত মালিকপক্ষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং সামাজিকভাবে হয়রানি করেন, যা দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
ভুক্তভোগী আবুল কাশেম আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে তাদেরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন) এর অন্তর্ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও জাল দলিল প্রণয়ন ও ব্যবহার করা হলে তা ধারা ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি, যা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারকে ব্যাহত করে।
এদিকে ভুক্তভোগীর ছেলে সোহেল রানা, যিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছেন, বলেন, তার অনুপস্থিতির সুযোগে তাদের বৈধ ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। বাধা প্রদান করলে তার পিতা ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নিকট একাধিকবার প্রতিকার চাইলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির আইনগত মালিকানাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা ৪৪১ (অবৈধ অনধিকার প্রবেশ), ধারা ৪৪৭ (ক্রিমিনাল ট্রেসপাস), ধারা ৪২৭ (ক্ষতিসাধন), এবং ধারা ৩৭৯ (চুরি বা সম্পত্তি হরণ সংক্রান্ত অপরাধ) এর আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া বেআইনি দখল উচ্ছেদের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করার বিধানও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের জমি পুনরুদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারের লঙ্ঘনই নয়, বরং আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
Leave a Reply