মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে চারজন এবং অপরটি থেকে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজনের কেউই পাস করতে পারেনি। একইভাবে আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৯৫০ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। তবে তারা কেউই নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল না। ফলে এবার চারজনের কেউই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
মাদ্রাসাটির সুপার ইউনুছ আলী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই পাঠদানে অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও আশানুরূপ হয়নি।
তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শুধু ফলাফল হিসেবে দেখলে হবে না; এর পেছনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না থাকা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর এর প্রভাবও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
Leave a Reply