মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় আজকের (১৪ ডিসেম্বর) একটি মতবিনিময় সভা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নওগাঁ-০৬ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মো. খবিরুল ইসলামের মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় আত্রাই উপজেলার ০৮ নম্বর হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক এবং ০১ নম্বর শাহাগোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ মল্লিককে।
সভায় ফারুক ও মজিদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই দুই নেতা কীভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকাশ্যে অংশ নিলেন—তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মো. ওমর ফারুক ও আব্দুল মজিদ মল্লিকের মতো আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতাদের নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সভা আয়োজন করা মানেই অতীতের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তাদের অভিযোগ, স্বৈরাচারী শাসনামলে যারা মানুষের জানমাল ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা দমন-পীড়নের রাজনীতির অংশ ছিল—তাদের পুনর্বাসনের যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “ফারুক–মজিদদের মতো নেতাদের সামনে এনে যারা রাজনীতি করতে চাইছেন, তারা মূলত ক্ষমতা ও স্বার্থের রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্ষমতার লোভে যারা আওয়ামী লীগকে ‘ক্ষমা’ করার কথা বলছেন, বাংলার সাধারণ মানুষ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।”
আরও অভিযোগ করা হয়, আত্রাই উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির কিছু ক্ষমতা ও অর্থলোভী নেতার ছত্রছায়ায় এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফারুক ও মজিদের মতো নেতাদের বিভিন্ন সভা-মিছিলে দেখা যাওয়াকে এরই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সচেতন মহলের কণ্ঠে আরও কঠোর প্রশ্ন—“যদি আওয়ামী লীগ এতটাই নির্দোষ হয়, যদি ফারুক–মজিদদের নিয়েই রাজনীতি করা যায়, তাহলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে কেন জীবন দিতে হলো? কেন এত মায়ের বুক খালি হলো? এই প্রশ্নের জবাব একদিন দিতেই হবে।”
সব মিলিয়ে, আত্রাইয়ে ফারুক ও মজিদের উপস্থিতি শুধু একটি সভার বিষয় নয়; এটি স্থানীয় রাজনীতিতে নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও আদর্শের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
Leave a Reply