নিজস্ব প্রতিনিধি:ময়মনসিংহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বেশুমার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে সালমান রহমান যেন গিলে খাচ্ছে এলজিইডি। তার সিমাহিন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালাতে ব্যবহার করছেন তার অফিসের দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের।
অভিযোগ রয়েছে ময়মনসিংহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান তার এলাকার সকল টেন্ডারে ৫-১০ হারে ঘুষ নিয়ে থাকেন। তিনি একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। টেন্ডারের ৭০ ভাগ কাজ তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করেদেন ,বিনিময়ে তিনি পেয়ে থাকেন মোটা অংকের পার্সেন্টেন্স। শুধু তাই নয় ওই সব কাজের সুপার ভিশনে থাকে বিশেষ ছাড়। যেসব কাজে লাভের সম্ভাবনা খুবই কম বা লাভের পরিবর্তে লসের সম্ভাবনা বেশি ওই কাজ গুলো তার সিন্ডিকেটের বাইরের ঠিকাদারদের পাইয়ে দেন।
সূত্র জানায় মেন্টেনেন্স ও ভাল লাভ জনক কাজ গুলো তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের গোপনে একটি রেট নির্ধারণ করে দেয়া হয়। তারা সকলে একই রেট দেয় অন্যদের রেট বেশি হলেতো কোন সমস্য নাই আর কম হলে নানান ছলচাতুরি করে টেন্ডারে অযোগ্য করে। পরে তার সিন্ডিকেটের মধ্য লোকদেখানো ড্র করে কাজ ভাগ করে দেয়া হয়।
জানা যায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে সালমান রহমান ময়মনসিংহ এলজিইডিতে পোস্টিং নেন। সূত্র জানায় নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমানের পিসি কালেকশনের দায়িত্ব উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম। ঠিকাদারের সাথে ঘুষের রেট ও ঘুষের টাকা আদায়ে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকেন এই দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তারা দুজন সমস্ত দিন মোটরসাইকেলে ময়মনসিংহ জেলায় যেখানে কাজ চলমান সেখানে যায় এবং ঠিকাদার থেকে চুক্তির টাকা আদায়ে ব্যস্ত থাকেন।
সূত্র আরো জানায় বিলের জন্য এমবি তৈরি ও বিলের থেকে প্রদানের সাথে প্রধান প্রকৌশলীর ও পিডির জন্য ৩-৫% ঘুষ আদায় করেন। জানা যায় মেন্টেনেন্সের কাজে ঘুষের কমিশন আরও বেশি। সূত্র জানায় মোবাইল মেন্টেনেন্স,ভবন মেন্টেনেন্স কেনাকাটায় ভূয়া বিল ভাউচার তৈরি করে ৫০-৬০% টাকা পকেটে ভরেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমানের দুর্নীতি এখানে শেষ নয়,ভেইকেল শাখা থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা মারিং করেন। গাড়ি,ট্রাক,রোলার ,হটমিক্স প্লান্টসহ যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলোর যান্ত্রিক সমস্যা না থাকলেও বড় ধরনের সমস্যা দেখিয়ে মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনার নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আবার ভাল রোলার খাতা কলম নষ্ট দেখিয়ে ওই সব রোলার বাহিরে ভাড়া দিয়ে নিজে হজম করে।
সূত্র আরো জানায় সম্প্রতি তার ক্যাশিয়ার নামে খ্যাত গিয়াস উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম কে হেড অফিস থেকে বদলি করলে তাদের রিলিজ না দিয়ে তদবির করে বদলি স্থগিত করেন। সূত্র জানায় গিয়াসউদ্দিন ও আশরাফুল তাদের বদলি ঠেকাতে প্রশাসন শাখার কর্তাব্যক্তিদের কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দেয়।জানা যায় এই ঘুষের পরিমান তিন লাখ টাকা করে ছয় লাখ এবং সংশ্লিষ্ট ইউডি আমিনুলকে অর্ধ লাখ টাকা করে ঘুষ দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়মনসিংহের একাধিক ঠিকাদার বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন ও আশরাফুলের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। তারা ঘুষের নির্ধারিত টাকার বাহিরে তাদের পৃথক ঘুষ দিতে হয় । নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমানের সেল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।ঠিকাদার ও এলাকার মানুষ দাবি করেন নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান ও ওই দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন ও আশরাফুলকে বদলি করলে এখানে ঘুষের রাজত্ব কমে যাবে এবং কাজের মান ভাল হবে।
Leave a Reply