বিশেষ প্রতিনিধি |
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও দীর্ঘদিন পদে বহাল থাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো অনুমোদন বা চুক্তি নবায়ন ছাড়াই তিনি ২১ মাসের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
জানা গেছে, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আমলে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তবে পরবর্তীতে তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কোনো চুক্তি বা বৈধ অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি পদে বহাল আছেন—এমন কোনো নথি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাওয়া যায়নি বলে মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা থেকে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৭০.২৯.২৮৬.১৩-৪১৫) তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, একলিম আবদীন ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোন আইনগত ভিত্তি বা কার আদেশে তিনি ওই পদে বহাল রয়েছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে কোনো বৈধ প্রজ্ঞাপন বা দাপ্তরিক নথি নেই।
এ অবস্থায় অননুমোদিতভাবে পদে বহাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদেশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ সময়ে সরকারি অর্থ থেকে বেতন-ভাতা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি কী—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সিসিক প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের জানা থাকার পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বলেন, “এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দিতে পারবেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) অথবা প্রশাসক মহোদয়।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, চুক্তির মেয়াদ, পদে বহাল থাকার বৈধতা এবং এ সময়ে গ্রহণ করা সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নথিপত্র যাচাই করে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা তলবের পর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply