1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :
ধামসোনা ইউনিয়নে সেবার অন্য নাম আবুল কালাম আজাদ, মানবিক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ এলাকাবাসী কাস্টমস কর্মকর্তার বহনকারী সিএনজির গতিরোধ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ,মামলা দায়েরের প্রস্তুতি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনালে কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সেফ রোড ফাইটার সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাণীনগরে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়ি আটকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহায়তায় রক্ষা এলজিইডি ময়মনসিংহ সমাচার নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান গিলে খাচ্ছে এলজিইডি রাণীনগরে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়ির গতিরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তায় উদ্ধার আত্রাই মাদকের বিরুদ্ধে এমপি রেজুর জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরদিনই ৩৫০ পিচ এম্পুল ইনজেকশন সহ আটক-০১ মুকসুদপুরে ছাত্রলীগ নেতা নেওয়াজ গ্রেফতার: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি পরিবারের নওগাঁ সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমে গতি আনতে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

বায়ু ও শব্দদূষণে মানুষের বেহালদশা 

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২

লেখক-কলামিষ্ট ও সাংবাদিক ওসমান গনিঃ শব্দ ও বায়ু দুষণে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ। বিশেষ করে, শব্দ ও বায়ু দুষণে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের অবস্থা একবারেই বেহাল।  ভয়াবহ শব্দ ও বায়ুদুষণের কবলে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রতি বছরই দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, শব্দ ও বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান । এসব গবেষণায় উঠে আসছে দৈনিক বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুর গুণাগুণ পরীক্ষা করে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষিত হয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় বায়ুর সাথে মিশ্রিত বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ফুসফুসে গিয়ে নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি করে থাকে। পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় শব্দ ও বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। শব্দ ও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ঢাকায় বছরে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয়ে থাকে।

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ঘনমিটার জায়গায় এসপিএম মিশে ২০০ মাইক্রোগ্রাম। এটা জাতীয় মানদণ্ডের চেয়ে দ্বিগুণ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। অপর দিকে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে ২৪ ঘণ্টায় ১০০ কেজি সিসা, তিন হাজার ৫০০ কেজি এসপিএম, এক হাজার ৫০০ কেজি সালফার-ডাই অক্সাইড, ১৪ টন হাইড্রোজেন কোরাইড ও ৬০ টন কার্বন মনোক্সাইড মেশে। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি করে যাচ্ছে। এসব ক্ষতিকর পদার্থ ঢাকার বাতাসে মিশছে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি, কলকারাখানা, ইটের ভাটায় ইট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ার মাধ্যমে এবং হাসপাতালের অনিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। এমনকি ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশে যাচ্ছে অনিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশনের কারণেও।যানবাহনের মধ্যে পরিবেশ দূষণ করে থাকে ট্রাক, কয়েক প্রকারের বাস, ডিজেল চালিত অন্যান্য যানবাহন এবং টু-স্ট্রোকের মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য বাহন।

বায়ুদূষণের ফলে, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগ, অ্যাজমা (হাঁপানি), বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া এবং আইকিউ হ্রাস পাওয়ার মতো নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছে। শুধু কলকারখানা ও যানবাহন নয়, অনিরাপদ হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। হাসপাতালে ব্যবহৃত সুই ও রক্ত ব্যবহার করে রক্তসহ ব্যাগ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, গজ-ব্যান্ডেজ, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ইত্যাদি উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে পরিবেশে রাসায়নিক পদার্থ মিশে পরিবেশ দূষণ করছে। ঢাকার আকাশে প্রতিদিন মিশে যাচ্ছে প্রচুর অ্যামোনিয়া গ্যাস। এই অ্যামোনিয়া মিশছে খোলা আকাশের নিচে ত্যাগ করা মল-মূত্র থেকে।ফুসফুসের রোগসহ নানা ধরনের রোগের জন্য দায়ী অ্যামোনিয়া গ্যাস।

 মল-মূত্র ও সার থেকে বায়ুবাহী ক্ষতিকর কণা তৈরি হচ্ছে এবং তা ফুসফুসে গিয়ে ক্ষতি করছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক, দ্বিতীয় চীনের রাজধানী বেইজিং, তৃতীয় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্সআয়ার্স, চতুর্থ দিল্লি এবং পঞ্চম ঢাকা। নাসার উপগ্রহ ‘অরা’য় স্থাপন করা ট্রপোস্ফেরিক ইশিন স্পেকট্রোমিটার যন্ত্রের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে বায়ুদূষণের এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গ্লোবাল এনভায়রন ইনডেক্স অনুসারে রাজধানীতে কার্বন রয়েছে গ্রহণযোগ্য ২৯০-৩০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) মাত্রার চেয়ে ৫০ বেশি। অর্থাৎ ঢাকায় কার্বনের পরিমাণ ৩৫০ পিপিএম। এসব পিপিএম আসছে ঢাকার কাছের ইট ভাটা থেকে ও পুরনো গাড়ির ধোঁয়া থেকে। এসব গাড়ি জ্বালানি পুরোপুরি পোড়াতে পারে না, পার্টিকল আকারে বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া পিপিএম আসছে শিল্প-কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছেড়ে দেয়ার কারণে এবং রাস্তা সংস্কারের ফলে নির্গত ধোঁয়া ও অন্যান্য উপায়ে।

 বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ ধুলাবালু, কলকারাখানা, যানবাহন ও হাসপাতাল বর্জ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বায়ুদূষণ হ্রাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশে তা শুধু কথামালা ও কাগজেই সীমাবদ্ধ। বায়ুদূষণ রোধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে না পারলে রাজধানীবাসী তথা পুরো দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতেই থাকবে। ফুসফুসের অ্যালভিওলি অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন মনোক্সাইড ৩০০ গুণ বেশি দ্রুত শোষণ করে। রক্তে উচ্চ ঘনত্বের কার্বন মনোক্সাইড মিশ্রণের কারণে বিভিন্ন আর্টারিতে রক্ত পাম্প করতে হৃৎপিণ্ডের অনেক বেশি কসরত করতে হয়। নাইট্রোজেন অক্সাইড শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সিস্টেমকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দেয়। হাড় ও কোষে সিসা জমে এক সময় ব্রেইন ও কিডনির বেশি ক্ষতি করে থাকে। সিসার ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের স্নায়ুবিক পদ্ধতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। ডিজেল ইঞ্জিন থেকে সাসপেডেন্ড পার্টিকুলেট মেটার (এসপিএম) নির্গত হয়ে থাকে। এই এসপিএম ‘শুট’ নামক এক ধরনের রাসায়নিক তৈরি করে যেটি দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া ইঞ্জিন পুরোপুরি পোড়াতে না পেরে কিছু হাইড্রোকার্বন ছেড়ে দেয়। হাইড্রোকার্বন কণা ফুসফুসের মাধ্যমে দেহে গিয়ে শিশুদের স্নায়ু বৈকল্যের সৃষ্টি করে থাকে।  বায়ু দুষণের সাথে সাথে রাজধানীতে  ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে শব্দদূষণও। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা। এভাবে ক্রমাগত শব্দদূষণ বাড়তে থাকলে আগামীতে জাতি একটি অসুস্থ প্রজন্মের জন্ম দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বর্তমান শব্দমান মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। কিন্তু এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

শব্দদূষণ কমাতে গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে হাইকোর্টের বিধি-নিষেধ থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশে ৯ দশমিক ৬ ভাগ বা দেড় কোটি মানুষ বধিরতার সমস্যায় ভুগছেন। এই বধিরতার অন্যতম কারণ শব্দদূষণ। শব্দদূষণের কারণে বধিরতা ছাড়াও মানুষের আরও নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। মাথাব্যথা, চোখে ব্যথ্যা, শরীরে ঝিম ঝিম ভাব, ক্ষুধামন্দা, হার্টের সমস্যা; এরকম অনেক সমস্যা হতে পারে শব্দদূষণের কারণে। এ ছাড়া শব্দদূষণের কারণে মেজাজ খিটখিটেও হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুরা।সরকারি আইন মোতাবেক শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী সব হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতের আশপাশের অন্তত ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দদূষণ দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এগুলো কেতাবেই লেখা আছে বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষকে সাময়িকভাবে বধির করে ফেলতে পারে। সংস্থাটির মতে, আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল হওয়া উচিত; বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডেসিবেল, রাতে ৫৫ ডেসিবেল; শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত। আর হাসপাতালে সাইলেন্স জোন বা নীরব এলাকায় দিনে ৫০, রাতে ৪০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা থাকা উচিত। হাইকোর্ট হাইড্রোলিক হর্নের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বিআরটিএ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। কেননা এখনো রাস্তায় বড় প্রায় সব গাড়িতেই হাড্রোলিক হর্ন রয়েছে। এগুলো দেখা দায়িত্ব বিআরটিএ ও পুলিশের। কিন্তু তারা এগুলো ঠিকমতো দেখছে না, আর দেখলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে সব গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন আছে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার অনেক সমাধান হবে।

 ঢাকায় মোট শব্দদূষণের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ দায়ী পরিবহন। পরিবহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে হাইকোর্টের বিধি নিষেধ থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হাচ্ছে না। বিষয়গুলো যাদের দেখার কথা তারা যথাযথভাবে তা দেখছে বলে মনে হচ্ছে না। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে শব্দদূষণ নিয়ে আমাদের এতো চিন্তা করতে হত না। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে ধীরে ধীরে মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, কানে ব্যথা হতে পারে, মাথায় ঝিমঝিম ভাব হতে পারে, মাথাব্যথা করতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে মানুষ বধিরও হয়ে যেতে পারে।

ঢাকায় শব্দদূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে গাড়ির শব্দ। পরিবহনের চালকরা কারণে অকারণে গাড়ির হর্ন বাজায়। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। এসব কারণে শব্দদূষণ হচ্ছে। জনসচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। শব্দদূষণ রোধে সরকার কাজ করছে। সরকারের পাশাপাশি দেশের সচেতন লোকজনদের কেও বায়ু ও শব্দ দুষণের ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :