মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:সাভার সদর ইউনিয়নে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে একজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
‘প্রতিদিনের সাভার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুপারভাইজার পদে ইউসুফ কবির উৎস ওরফে উৎস মোল্লার নাম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঢাকা জেলা উত্তর শাখার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি সরকারি কোনো নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত অভিযোগ ও সংবাদ প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইউসুফ কবির উৎসের বাবা হুমায়ুন কবির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাভার তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় উৎস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও তালিকা তৈরির কাজে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি যুক্ত থাকবেন। ফলে এ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্বাচন ও চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত ফলাফল বিবেচনার কথা রয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নির্ধারিত যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকা কীভাবে তৈরি করা হয়েছে? ইউসুফ কবির উৎসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করা হয়েছিল কি না? তার যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য কোন কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো আপত্তি বা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ও পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।
এর আগে সাভারেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে প্রতারণার ঘটনাও সংবাদে এসেছিল। ফলে নতুন এই অভিযোগ সামনে আসায় কর্মসূচিটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরকারি নিয়োগের নথি, চূড়ান্ত তালিকা এবং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করা।
অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। তাই এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি নিয়োগ ও উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
Leave a Reply