খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারে সড়ক সরলীকরণ প্রকল্পে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে নকশা পরিবর্তনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সোমবার (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে কপিলমুনি বাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবি তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপংকর দাশ এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হকের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও মতামত শোনা হয়। শুরুতেই এলাকাবাসী সড়ক সরলীকরণে সওজের প্রস্তাবিত উচ্ছেদ অভিযানের অসারতা তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভবন রক্ষায় ভুল নকশায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান নকশা অনুযায়ী সড়কের বাঁক সরল করা হলে আরও ঝুঁকিপূর্ণ দুটি বাঁকের সৃষ্টি হবে। এতে কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল ও জাফর আউলিয়া ডিগ্রি মাদরাসার সামনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। অবিলম্বে নকশা সংশোধন করে সড়ক সোজা করার দাবি জানান তারা।
গণশুনানিতে পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জামিরুল ইসলামসহ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এস এম মুস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নকশা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
গণশুনানির আগেই ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানান। পরে গণশুনানি শেষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন, “গণদাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সড়কের বাঁক সরলীকরণ কার্যক্রম পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, এর আগে মাইকিং করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এ সময় বুলডোজার দিয়ে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া সিনিয়র ডিগ্রি মাদরাসার দ্বিতল ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর রবিবার দ্বিতীয় দফা ভাঙন শুরু হলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযান স্থগিত করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ১০ ডিসেম্বর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কপিলমুনিতে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
Leave a Reply