মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:ঢাকার সাভারে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভারের আরাপাড়া কামাল রোড এলাকা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আরও জোরালো রূপ নেয়। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে ও মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
শিল্প পুলিশ ও সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কর্মকর্তাদের আটকে রেখে মূল গেটে তালা
উরি অ্যাপারেলস লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক দুই মাসের বকেয়া বেতন, সঞ্চয়ী হিসাব ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে বের হতে না দিয়ে মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মেশিন সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জনে ক্ষোভ আরও বাড়ে
শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কারখানার মালিকপক্ষ রাতের অন্ধকারে শ্রমিকদের না জানিয়ে মেশিনপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শ্রমিকরা দাবি করেন—বেতন না দিয়ে হঠাৎ মেশিন সরিয়ে নেওয়ার মানে হলো কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়া।
অবরুদ্ধের অভিযোগ অস্বীকার করলেন একাউন্টস ম্যানেজার
এ বিষয়ে কারখানার একাউন্টস ম্যানেজার শফিক আহমেদ বলেন, “আমাদের কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। আজ শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্যাংক জটিলতার কারণে টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি। আগামীকাল সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, কারখানাটি আগেই আশুলিয়ার বেলমা এলাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা শ্রমিকদের জানানো হয়েছিল।
তবে শ্রমিকরা এসব ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তারা রাতেই বেতন পরিশোধের দাবি জানান এবং কারখানার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন
সাভার মডেল থানার এসআই মুস্তাসিন জানান, “পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমরা কাজ করছি।”
অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের ইনস্পেক্টর বলেন, “মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
বকেয়া বেতন পরিশোধ নিয়ে টানাপড়েনে উত্তপ্ত শ্রমিকদের এই রাতভর অবস্থানের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়—তা এখন সবার নজরেই।
Leave a Reply