মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:
‘ল্যাব ফি, ম্যাগাজিন ফি, কম্পিউটার ফি—ফি নেওয়া হচ্ছে নানা খাতে, কিন্তু মিলছে না প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা।’—এমন অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিভাবকরাও।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েকশ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে ল্যাব, ম্যাগাজিন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন খাতে ফি আদায় করা হলেও সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কেন্টিনের খাবারের মান, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পানির ব্যবস্থা এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং শিক্ষকদের কাছে বিভিন্নভাবে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তবে অভিযোগগুলোর কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। বরং প্রতিবাদ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি প্রত্যাহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বেশ কয়েকজন অভিভাবকও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডি। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহা. তালিম হোসেন অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “যেসব অতিরিক্ত ফি ধরা আছে, সেগুলো সমন্বয় করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।”
গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক সামছুল আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
গভর্নিং বডির আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা অনেকটা প্রশমিত হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফি আদায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ, খাবার পানি, কেন্টিন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।
Leave a Reply