ডেস্ক রিপোর্ট :
ময়মনসিংহ নগরীর কিসমত গুনটি এলাকায় দীর্ঘদিন আগে ক্রয় করা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, বসতবাড়ির বেড়া ভাঙচুর ও গাছপালা কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমির মালিক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৬ বছর আগে জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তারা। সম্প্রতি ওই জমির পূর্ব মালিকের ছেলে শাহ আলম, তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। এ সময় বসতবাড়ির বেড়া ভাঙচুর ও কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কিসমত গুনটি এলাকায় ২০১০ সালে জাহেদ আলীর কাছ থেকে মোট ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ফারুকুজ্জামান। এর মধ্যে ১৬৯ নম্বর দাগে ৯ শতাংশ এবং ১৫২ নম্বর দাগে ৪ শতাংশ জমি রয়েছে। জমি কেনার পর বিক্রেতা জাহেদ আলী জমি মেপে বুঝিয়ে দেন বলে দাবি করেন ফারুকুজ্জামান।
জমি বুঝে পাওয়ার পর সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে জমিটি তার দখলে রয়েছে এবং সেখানে বসতবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন গাছপালাও রয়েছে। তবে সম্প্রতি জাহেদ আলী মারা যাওয়ার পর তার ছেলে শাহ আলমসহ কয়েকজন ওই জমিতে এসে দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ ফারুকুজ্জামানের।
ফারুকুজ্জামান বলেন, “শাহ আলম, তার ছেলে, স্ত্রী ও আশপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে এসে জোরজবরদস্তি করে আমার জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। বাড়ির বেড়া ভেঙে ফেলেছে এবং কলাগাছ কেটে দিয়েছে। আমার দখলে থাকা জায়গা থেকে আমাকে বেদখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এ বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ফারুকুজ্জামানের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন বলেন, “জায়গাটি আমাদের দখলে রয়েছে। তারা জোর করে আমাদের বেদখল করার চেষ্টা করছে। আমাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আমাদের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর জমিতে দেওয়া একটি বেড়া সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তবে এরপরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন মাতব্বরের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বৈঠক চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সালিসি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় এক পক্ষের লোকজন সালিসে উপস্থিত কয়েকজনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় মাতব্বর সোহেল রানা বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে সালিসে বসেছিলাম। হঠাৎ করে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সালিসি বৈঠকটি বন্ধ করে দিতে হয়। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। দুই পক্ষকে নিয়ে আবারও বসে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহ আলম।
এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জমির কাগজপত্র ও দখল পরিস্থিতি যাচাই করে আইনগতভাবে বিষয়টির সমাধান এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply